দুর্গাপুর: বর্ণিত ইতিহাস অনুযায়ী রামচন্দ্র যখন রাবণকে বধ করতে লঙ্কায় গিয়েছিলেন তখন অকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন।রামায়ণে তা অকালবোধন নামেই লিখিত। দুর্গাপুরেও দেবী দুর্গার অকালবোধন। দেবীপক্ষে দুর্গার আরাধনা নয়। রথ যাত্রার দিন থেকেই দেবী দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠে দুর্গাপুরের এমএএমসি বি-২ এলাকার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

 ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দুর্গাপুজোর এখনও প্রায় তিন মাস বাকি থাকলেও, এখানকার বহু বছরের ঐতিহ্য মেনে বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়ে গেল দেবীর নিত্যপুজো। ঢাকের তালে, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এই পুজোর প্রস্তুতি অবশ্য আরও আগে থেকেই শুরু হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন 'পাটা পুজো'র মাধ্যমে প্রতিমা তৈরির সূচনা হয়। দুর্গাপুর স্টেশন বাজারে মাটির প্রতিমা গড়ে তোলার পর রথযাত্রার দিনে দেবীকে শাড়ি, ফুলের মালা ও ফুলের গয়নায় সাজিয়ে মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে এলাকার মহিলারা বরণ করে নেন দেবীকে, আর পুরুষেরা নাচ-গানে উৎসবের আনন্দে সামিল হন। প্রায় ৫৬ বছর ধরে শ্রী শ্রী সর্বমঙ্গলা দুর্গা মন্দিরে এই অনন্য রীতি চলে আসছে। পুরাণ-অনুসৃত নিয়মে এখানে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়।

অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে বিশেষ আচার হিসেবে 'সন্দেশ বলি'রও প্রচলন রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সত্যব্রত দাস জানান, "দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে এই প্রথা অটুট রয়েছে। রথযাত্রার দিন থেকেই মায়ের নিত্যপুজো শুরু হয়। সকাল-সন্ধ্যা এলাকার মানুষ ভক্তিভরে পুজোয় অংশ নেন। বিশ্বাস, আন্তরিক ভক্তিভরে মাকে ডাকলে তিনি সকলের মনোবাসনা পূরণ করেন।""এক বিরল দূর্গোৎসবের ছবি দুর্গাপুরে। রথযাত্রার দিন থেকেই কার্যত এই এলাকার মানুষ মেতে ওঠেন দুর্গোৎসবের আনন্দে।