দুর্গাপুর: গত ১ জুলাই রাজ্যের প্রয়াত ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডা: বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যু দিবসে দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের এ-জোন ডি-সেক্টর মার্কেট এলাকায় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার তৃণমূল কংগ্রেসের স্থায়ী শ্রমিক সংগঠন হিন্দুস্তান মজদূর ইউনিয়ন এর উদ্যোগে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন হয়। সেখানে তৃণমূল নেত্রী দোলা সেনের আগমন নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় বাদানুবাদ দেখা যায়। তার পরেই শুক্রবার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা স্থায়ী শ্রমিক সংগঠনের এই কার্যালয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা স্থায়ী সংগঠনের নেতা জয়ন্ত রক্ষিত বলেন,""সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। আমাদের কার্যালয়ে নামে কারো কাছ থেকে কোনদিন কোন টাকা নেওয়া হয়নি। মিথ্যা অভিযোগে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো ও দখল নেওয়াটাই প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ""
চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ। তৃণমূলের নেতারা বিভিন্ন কারখানায় অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের নামেও চলত অর্থ আদায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে বলল সাধারন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি কর্মীরা। বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ ভাঙচুর চালাল তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইস্পাত নগরীর চৈতন্য এভিনিউ এলাকা। অভিযোগ, দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর চৈতন্য এভিনিউতে অবস্থিত তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা মজদুর ইউনিয়নের কার্যালয় থেকেই দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চলত। বিভিন্ন কারখানায় অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত অনেকেই চাকরি পাননি বলে অভিযোগ। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতারিতদের একাংশ। বিক্ষুব্ধ জনতা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। ঘটনায় প্রতিবাদে সামিল হয় বিজেপিও। তাদের অভিযোগ, এই কার্যালয় থেকেই দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অবৈধ কাজকর্ম পরিচালিত হতো এবং তার নেপথ্যে ছিলেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের একাধিক নেতা। পাশাপাশি অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে এই বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে বা মুখ খুললে তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হতো। বিজেপি নেত্রী সুমনা ভট্টাচার্য বলেন, "টাকা নিয়ে বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাঁদের চাকরি দেওয়া হয়নি। আমরা প্রতারিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। হয় তাঁদের চাকরি দিতে হবে, না হলে তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই কার্যালয় থেকে আর কোনও মানুষ প্রতারিত না হন, সেই কারণেই আমরা এই কার্যালয়ের দখল নিয়েছি।"