সরকারি ভাতা অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা ঢুকতেই মাথায় আসে মানুষের জন্য কিছু করা।""চলো কিছু করে দেখায়""।আর সেই ভাবনা থেকেই প্রচণ্ড রোদের মধ্যে রাজপথে দাঁড়িয়ে আমাদের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে যাদের নোনা ঘামে ভিজে যায় কংক্রিটের কালো রাস্তা সেই সমস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার ভাই-দাদাদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য নজির তৈরি করলেন দুর্গাপুরের এক সাধারণ গৃহবধূ মৌসুমী ঘোষ । তীব্র গরমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ। মাথার উপর প্রখর রোদ, গায়ে ঝলসে যাওয়া তাপ তার মধ্যেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত কর্তব্যরত সিভিক ভলেন্টিয়ার ও পুলিশকর্মীরা।আর চড়া রোদকে উপেক্ষা করে মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করে যারা তাদের জন্য কিছু করার তাগিদেই মৌসুমী ঘোষের এমন ভাবনা। নিজের জমানো সামান্য কিছু টাকা আর সরকারি অন্নপূর্ণা যোজনার যে টাকা পেয়েছেন তাই দিয়েই তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এই সিভিক কর্মীদের কিনে দিলেন ছাতা। মহিলার এই মানবিকতার স্পর্শে আপ্লুত দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ""আগের সরকারের সময় পুলিশকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এখন পুলিশ কাজ করছে মুক্তমনে,ভয়হীন পরিবেশে। এই মহিলাকে ধন্যবাদ জানাবার ভাষা নেই আমার। এই ভাবেই সবাই মিলে একটি ভালো সমাজ তৈরি করতে পারি। শুধুই সরকার নয় সবাইকে সবার পাশে দাঁড়াতে হবে এটাই হোক নতুন দিনের অঙ্গীকার। ""
দুর্গাপুরের মুচিপাড়া এলাকায় দেখা গেল এক হৃদয়স্পর্শী ছবি। রাস্তা দিয়ে প্রায়শই যাওয়ার সময়ই মৌসুমী ঘোষ লক্ষ্য করতেন, ট্রাফিক পুলিশ দীর্ঘক্ষণ ধরে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। তাই তিনি সরকারি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকায় এবং নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছেন বেশ কয়েকটি ছাতা। নিজের হাতে একটি ছাতা তুলে ধরেন ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের মাথার উপর। মৌসুমী ঘোষ জানালেন, ""ওদেরকে রোদে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার খুব কষ্ট হতো। ওরাও তো আমাদের বাড়ির ভাই -দাদা। তাই আমি আমার সামান্য প্রচেষ্টাতে ওদের মাথায় একটি করে ছাতা তুলে দিলাম। প্রখর দাবদহের হাত থেকে মুক্তি পেতে মানুষ যখন ঠান্ডা ঘরের ভেতরে আরামে সুখ ভোগ করছেন, ওরা কিন্তু তখন পেশাগত তাগিদে আমাদের সুরক্ষা দিতে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছেন। তাই আমার এই ভাবনা। ""
ব্যস্ত শহরের কোলাহলের মাঝেও এই ছোট্ট মানবিক উদ্যোগ যেন বড় এক বার্তা দিয়ে গেল। যেখানে প্রায়শই নানা কারণে পুলিশকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, সেখানে একজন সাধারণ মহিলার এই নিঃস্বার্থ সহমর্মিতা সকলের মন জয় করেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই বলছেন, মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর এই ছবিই আসলে সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি।