দুর্গাপুর: বারবার সরকারি এই দপ্তর ওই দপ্তরে ঘুরেও অসুস্থ শয্যাশায়ী স্ত্রীর আ্যকাউন্টে ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা।বৃহস্পতিবার তাই দুর্গাপুর নগর নিগমে সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে নিজের ক্ষোভ দেখাতেই মিলল সরকারি কর্মে চরম দুর্ব্যবহার, নিমেষেই নগর নিগমের ছড়ালো উত্তেজনা। দুর্গাপুর নগর নিগমের সরকারি কর্মী স্বপ্নেন্দু ভৌমিক ওরফে জয় ভৌমিককে সামান্য রোজগেরে ওই ব্যাক্তির নিজের অসুস্থ স্ত্রীর জন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা চাইতে আসা ওই অসহায় ব্যক্তিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গেল।সরকারি ওই কর্মী হুঁশিয়ারি দিয়ে আবার বলছেন,"" আমি স্বপ্নেন্দু ভৌমিক,যান যেখানে যা করার করে নিন।""

বিজ্ঞাপন

 সিপিআই(এম) আমল থেকে স্বপ্নেন্দু ভৌমিকের দাপট রয়েছে দুর্গাপুর নগর নিগমে বলে অভিযোগ উঠছে। যাকে ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা। অভিযোগ, একাধিকবার আবেদন জানিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় নগর নিগমের কর্মী স্বপ্নেন্দুর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন দুর্গাপুরের বাসিন্দা শিবকুমার মণ্ডল। ঘটনাকে ঘিরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। শিবকুমার মণ্ডলের দাবি, তিনি স্বল্প বেতনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। স্ত্রীর চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ সামলাতে তাঁকে যথেষ্ট আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

সেই কারণে সরকারি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার আশায় তিনি বারবার দুর্গাপুর নগর নিগমে এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে তাঁর আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। শিবকুমারের অভিযোগ, বহুবার অফিসে আসতে গিয়ে তাঁকে কাজ থেকে ছুটি নিতে হয়েছে। এতে যেমন তাঁর আয়ের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি অসুস্থ স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে বারবার দফতরে আসাও তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবুও দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কোনও সমাধান না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার নগর নিগমে এসে ফের একই সমস্যার সম্মুখীন হলে তিনি ওই কর্মীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বচসাকে কেন্দ্র করে অফিস চত্বরে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। উপস্থিত কর্মী ও সাধারণ মানুষ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম বলেন," অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। সরকারি কর্মীদের এবং আধিকারিকদের মানুষকে পরিষেবা দেওয়া কাজ। কারো সাথে দুর্ব্যবহার করা বা হুঁশিয়ারি দেওয়া একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। আমি ওই কর্মীকে ডাকবো। ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"  তৃণমূল নেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেন,"স্বপ্নেন্দুর বাবা সুখেন ভৌমিক ছিলেন দুর্গাপুর নগর নিগমের কর্মী। বাবার মৃত্যুর পর স্বপ্নেন্দু কাজ পায়। কিন্তু কোনও মানুষের সাথে এই ধরনের ঘটনা কেন ঘটাচ্ছে তা একেবারেই কাম্য নয়। আমরা জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ জানাবো।" জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মন্ডল বলেন,"আমাদের সরকার এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করবে না। আমরা অভিযোগ জানাবো।"