দুর্গাপুর : চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করল পূর্বাঞ্চল। সম্প্রতি ৭৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ ব্যক্তির ওপর সফলভাবে সম্পন্ন হলো 'এমআইএস বিকিনি ডাইরেক্ট অ্যান্টিরিয়র অ্যাপ্রোচ' (MIS Bikini DAA) আনসিমেন্টেড বাইপোলার হেমি-রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি। এই ধরনের ন্যূনতম আক্রমণাত্মক (Minimally Invasive) যৌথ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তো বটেই, সমগ্র পূর্ব ভারতে এই প্রথম।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রবীণ ওই ব্যক্তি নিতম্বের হাড়ের ফ্র্যাকচার (Fractured Neck of Femur) নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সাধারণত এই বয়সে অস্ত্রোপচার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পেশী না কেটে, ত্বক ও টিস্যু বাঁচিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই 'মাসল-স্পেয়ারিং' পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়।
অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন দ্য মিশন হাসপাতালের প্রখ্যাত জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট স্পেশালিস্ট ড. অর্ঘ্য কুণ্ডু চৌধুরী। চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণ রোগীদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী হিপ ডিসলোকেশন বা জয়েন্ট সরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে এই 'বিকিনি ডিএএ' পদ্ধতির মূল সুবিধা হলো এতে কোনো পেশী কাটতে হয় না, ফলে নিতম্ব সরে যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নেমে আসে এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা ফিরে পান।
প্রবীণ রোগীর ক্ষেত্রে অ্যানাস্থেসিয়া প্রদান অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সাথে সামাল দেন বিশিষ্ট অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট ড. তমালিকার নেতৃত্বাধীন টিম। তাঁদের দক্ষ পরিচালনায় সম্পূর্ণ নিরাপদে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণ রোগীদের আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং কম ব্যথায় সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের আধুনিক ও গবেষণানির্ভর পদ্ধতি একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিল।