দুর্গাপুর, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (BCREC) ক্যাম্পাসের দুলাল মিত্র অডিটোরিয়ামে বি.টেক প্রথম বর্ষের ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী স্তবপ্রিয়ানন্দ মহারাজ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিসিআরইসি-র ভাইস প্রিন্সিপাল ড. কে. এম. হোসেন, রেজিস্ট্রার ড. জি. এস. পণ্ডা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বিসিআরইসি-র ভাইস প্রিন্সিপাল ড. কে. এম. হোসেনের স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে। তিনি প্রধান অতিথি, অন্যান্য গুণীজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং নবীন শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
ড. হোসেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব মেধা চেনা এবং তা বিকশিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “সবার মধ্যেই প্রতিভা রয়েছে; আমাদের কাজ হলো তা খুঁজে বের করা এবং শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলা।”
প্রধান অতিথি স্বামী স্তবপ্রিয়ানন্দ মহারাজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর মূল্যবান মতামত ও উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা শেয়ার করেন। তাঁর অনুপ্রেরণামূলক ভাষণে মহারাজ শিক্ষার্থীদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে, হৃদয়ের কথা শুনতে এবং তাঁদের নির্বাচিত বিষয় ও লক্ষ্যপূরণে মনোযোগী হতে আহ্বান জানান। তিনি পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং জীবনের পথচলায় সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
মহারাজ শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “একবার সময় চলে গেলে তা আর কখনোই ফিরে আসে না।” তিনি সবাইকে সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে এবং জীবনকে আরও শক্তিশালী ও উদ্দেশ্যপূর্ণ করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করতে উৎসাহিত করেন। তিনি আরও বলেন, যাঁরা স্বপ্নপূরণ করতে চান, প্রতিকূলতার মুখে তাঁদের কখনো হাল ছাড়া উচিত নয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মহারাজ বলেন, “ঈশ্বরের আশীর্বাদ সর্বদা তোমাদের সাথে রয়েছে” এবং পরামর্শ দেন, “যেকোনো একটি আদর্শকে গ্রহণ করো এবং সেই আদর্শেই বাঁচো।” তিনি তাঁদের মেধা ও লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠাবান, সুশৃঙ্খল এবং দৃঢ় থাকার প্রেরণা দেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস, স্বপ্নের প্রতি আস্থা এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের অঙ্গীকার নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সমাপনী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। এতে শিক্ষার্থীরা গান, নাচসহ বিভিন্ন পারফর্ম্যান্স পরিবেশন করেন। এই অনুষ্ঠানটি একতা, বন্ধুত্ব ও অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা ফুটিয়ে তোলে। পরিশেষে এক অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক আবহে সমাপনী অনুষ্ঠানটি শেষ হয়, যা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়সংকল্প নিয়ে তাঁদের একাডেমিক জীবন শুরু করতে উৎসাহিত ক
রেছে।