বুদবুদ, ২০ অগাস্ট : গ্রামে ঢোকার রাস্তাই নেই। যার জন্য অ্যাম্বুলেন্স অথবা গাড়ি দেখে সময় মত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে না পারার কারণে, ছয় মাসের এক শিশুর প্রাণ গেল বিনা চিকিৎসায়, এমন অভিযোগে রাস্তা আটকে বিক্ষোভে গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের বুদবুদ থানার অন্তর্গত চাকতেতুল পঞ্চায়েতের বাউরিপাড়ার বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

মাত্র কয়েকদিন আগেই দেশজুড়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে পালিত হলো ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু স্বাধীনতার ৭৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও পূরণ হয়নি বুদবুদ থানার অন্তর্গত চাকতেতুল পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাউরি পাড়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, তাদের গ্রামে ঢোকার মূল রাস্তা দেখলে চোখ ফেটে জল আসবে। অবহেলিত হয়ে পড়ে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। ‌ভারী বৃষ্টি বা বর্ষাকালে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় যাতায়াত।আর গ্রামের মানুষরা যেন একখণ্ড বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে পড়েন।

 প্রায় ২০০ টির উপর পরিবারকে মূলত গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে এতটাই দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় যে গ্রামের কোনও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা গ্রামের মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। আর সেই কারণেই রাস্তা না থাকার ফলে গ্রামেরই এক ছয় মাসের শিশু অসুস্থ হয়ে মারা যায় এমনটাই অভিযোগ শিশুটির পরিবারের।

এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাউরিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামের বেহাল রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাস্থলে আসে বুদবুদ থানার পুলিশ। ‌মৃত শিশুর মাসি মাধুরী বাউরী অভিযোগ করেন,"শরীর খারাপ হয়েছিল শিশুটির। সেই জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাস্তা নেই সেই জন্য অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।" গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন,"রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। বিধায়করা বদল হয়েছে। কিন্তু বদল হয়নি সরকারি আধিকারিকদের। সেই সরকারি আধিকারিকরা ঠিকঠাক কাজ করছে না। সেই জন্যই ঘটনা ঘটছে। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।" দ্রুত গ্রামে ঢোকার রাস্তার কাজ শুরু হবে বল পুলিশি আশ্বাসে বিক্ষোভ উঠে যায়।সরকার আসে সরকারের বদল হয়ে যায়, কিন্তু এদের ভাগ্য বদল হয় না।

তাই আজও চাকতেতুল গ্রামের বাউরি পাড়ার বাসিন্দারা যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা। কবে ঘুচবে তাদের এই অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন? বর্ষার সময় বেহাল রাস্তার দরুন এই গ্রামের মানুষের দুর্দশা ছবি কবে আর দেখতে পাওয়া যাবে না? প্রতিশ্রুতি বহুবার মিললেও গ্রামের মানুষ প্রতিশ্রুতির কথা শুনলেই"" সিঁদুরে মেঘ"" দেখেন। এদের কথা অনেক দেরিতে পৌঁছায় প্রশাসনের কাছে, তাই হয়তো এই বাউরি পাড়ার মানুষগুলো সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।