দুর্গাপুর,৯ অগাস্ট : বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল পুলকার চালকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরে। চলতি মাসের ১ তারিখে নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের ওই ছাত্রের সঙ্গে যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর নিউটাউনশিপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পুলকার চালক। অভিযোগের তদন্ত ও সুবিচারের দাবিতে রবিবার সকালে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান বিধায়ক। ঘটনা প্রসঙ্গে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ""একটি অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ওই কিশোরের বাবা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশকে অনুরোধ করেছি গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। পুলিশের কাজে আমরা নাক গলাবো না। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং ঘটনায় কেউ ছাড় পাবেন না।""বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ওই কিশোরের বাবা অভীক মুখোপাধ্যায় বলেন, ""আমার সন্তান বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। পুল কারে করে সে স্কুলে যেত। দুজন পুলকার চালক একজনের নাম বিশ্বজিৎ অন্যজনের নাম কৃষ্ণ। কৃষ্ণ বলে গাড়ি চালক আমার সন্তানের গাল টিপতো। আমার সন্তান তাতে ক্ষিপ্ত হতো। একদিন কৃষ্ণের হাতে কামড়ে দেয়। তার প্রতিশোধ নিতে আমার সন্তানকে রাস্তায় ফেলে মারধর করার পাশাপাশি তার পোশাক ছিঁড়ে দেয়।!গাড়ির মালিক কে আমি বলতে গেলে তিনি গাড়ি চালকদের পক্ষেই কথা বলেন।আমি পুলিশের কাছে গিয়েছিলাম পকসো আইনে আমার ছেলেকে মারধর এবং যৌন হেনস্তার অভিযোগ জানাতে। পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে আমি বিধায়কের কাছে আসি। বিধায়ক আমার সামনেই পুলিশকে এখন জানিয়ে দিলেন। এখন দেখি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। ""অন্যদিকে পুলকারের মালিক বিজয় রুইদাস বলেন, ""দীর্ঘ বহু বছর ধরে এই পুলকার ব্যবসার সাথে আমি যুক্ত। আমার অধীনে কাজ করার দুই চালক কৃষ্ণ ও বিশ্বজিৎ এদের বিরুদ্ধে কোন অভিভাবকের কোন অভিযোগ আজ পর্যন্ত নেই। মারধর এবং যৌন হেনস্তার যে অভিযোগ করছেন তার জন্য গাড়িতে থাকা অন্যান্য বাচ্চারা এবং অভিভাবকদেরকেও আমি থানায় নিয়ে গিয়েছিলাম। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। "" অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ। তদন্তের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।