নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর:
চিকিৎসা প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ ও চিকিৎসকদের দক্ষতার অনন্য নজির গড়ল দুর্গাপুরের দ্য মিশন হাসপাতাল। জটিল অর্থোপেডিক চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এক ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তির দুই হাঁটুতেই অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আধুনিক পদ্ধতিতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করলেন বিশিষ্ট সার্জনরা। এর ফলে দীর্ঘদিনের তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ওই রোগী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রোগী তীব্র হাঁটু ব্যথার সমস্যা নিয়ে মিশন হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তিনি ‘গ্রেড ৪ অস্টিওআর্থ্রাইটিস’ এবং ‘গ্রেড ২ ভ্যালগাস ডিফরমিটি’ (হাঁটু ভেতরের দিকে বেঁকে যাওয়ার সমস্যা)-তে ভুগছিলেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর দুই হাঁটুই পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়ে।
প্রখ্যাত রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন ডাঃ সন্তু সরকার (MS - Gold Medalist, MCh - AIIMS)-এর নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রোগীর ‘স্টেজড বাইল্যাটেরাল টোটাল গোল্ড নি আর্থ্রোপ্লাস্টি’ (ধাপে ধাপে দুই হাঁটুর প্রতিস্থাপন) সম্পন্ন করেন।
অস্ত্রোপচারের মূল বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক প্রযুক্তি:
কোয়াড্রিসেপ্স-স্পেয়ারিং সাবভাস্টাস অ্যাপ্রোচ: প্রচলিত পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের সময় মাংসপেশি কাটার প্রয়োজন হলেও, এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক (minimally invasive) পদ্ধতিতে কোনো মাংসপেশি না কেটেই জটিল চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়েছে।
টোটাল গোল্ড নি আর্থ্রোপ্লাস্টি: দীর্ঘস্থায়ী ও উন্নত মানের গোল্ডেন নি ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
সেলাইবিহীন (স্ট্রিচলেস) ক্লোজার: অস্ত্রোপচারের পর প্রথাগত সেলাইয়ের বদলে বিশেষ কাটলিঙ্ক স্ট্রিচলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা ক্ষতের দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে।
দ্রুত সুস্থতার নজির:
আধুনিক চিকিৎসার ফলে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত হয়েছে। অস্ত্রোপচারের প্রথম দিনেই তিনি ওয়াকারের সাহায্যে হাঁটতে শুরু করেন। পরবর্তীতে সঠিক পুনর্বাসন (rehabilitation) এবং সার্বিক পরিচর্যার মাধ্যমে মাত্র ১০ দিনের মাথায় কোনো রকম বাহ্যিক সহায় ছাড়াই তিনি স্বাধীনভাবে স্বাভাবিক হাঁটাচলা শুরু করেন।
এই সাফল্য সম্পর্কে ডাঃ সন্তু সরকার জানান, "সঠিক সার্জিক্যাল পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অস্ত্রোপচার পরবর্তী সঠিক পুনর্বাসনই রোগীর দ্রুত সুস্থতার প্রধান চাবিকাঠি।"
শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর তো বটেই, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির রোগীদের জন্যও দ্য মিশন হাসপাতালের এই সফলতা অর্থোপেডিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।