দুর্গাপুর,১১ অগাস্ট : :চলতি মাসের ৫ তারিখে আসানসোলে প্রায় ২৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনার পরে এবার দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার পুলিশ সোমবার রাতে প্রায় ৫৪ কেজি গাঁজাসহ উড়িষ্যার তিনজনকে গ্রেপ্তার করল।আসানসোলে বিপুল পরিমাণ গাঁজা এসেছিল ঝাড়খন্ডের জামতাড়া থেকে আর দুর্গাপুরে গাঁজা এসেছে উড়িষ্যা থেকে।।স্বাভাবিকভাবেই আন্ত:রাজ্য সীমান্তগুলিতে পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষ যখন গাড়ি নিয়ে পরিবার নিয়ে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যায় তখন সীমান্তে করা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়। অথচ বিপুল পরিমাণ গাঁজা অবাধে রাজ্যে নিয়ম করে ঢুকে পড়ছে তাতে কি আন্ত:রাজ্য সীমান্তগুলিতে নজরদারির শিথিলতার ছবিকে স্পষ্ট করেনা?যদিও এই বিষয় নিয়ে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এর পক্ষ থেকে কোন কিছু বলা হয়নি।
পাচারের আগেই পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় সাফল্য পেল কোক ওভেন থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা-সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৫৩ কেজি ২৩৭ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের এই তৎপরতায় পাচারকারীদের বড়সড় ছক বানচাল হয়ে গেল বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম নরহরি বিশাল (৪৬), উপেন্দ্র প্রধান (৩৮) এবং চন্দ্রকান্ত নায়ক (৩২)। তিনজনই ওড়িশার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা নাগাদ ওড়িশা থেকে বাসে করে দুর্গাপুরের সুকুমারনগর সংলগ্ন পচা খাল নামক এলাকায় নামে ওই তিনজন। সেখান থেকেই গাঁজা পাচারের পরবর্তী পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোক ওভেন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জন মণ্ডল দ্রুত একটি বিশেষ পুলিশ দল তৈরি করেন। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই ওই এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে তিনজনকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ গাঁজা। পুলিশের দ্রুত তৎপরতা, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান এবং সময়োচিত পদক্ষেপেই পাচারের আগেই এই বড়সড় সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। পুলিশের এই তৎপরতায় একদিকে যেমন মাদক পাচারের একটি বড় চক্রের পরিকল্পনা ভেস্তে গেল, তেমনই বিপুল পরিমাণ গাঁজা বাজারে পৌঁছনোর আগেই তা আটক করা সম্ভব হল। ধৃত তিনজনকে মঙ্গলবার আসানসোল আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাদের হেফাজতে নিয়ে এই মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথা থেকে গাঁজা আনা হয়েছিল এবং কোথায় তা পাচারের পরিকল্পনা ছিল—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কোক ওভেন থানার পুলিশের এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যকে ঘিরে ফের একবার স্পষ্ট হল, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপে শিল্পাঞ্চলে পুলিশের তৎপরতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ ঝাড়খণ্ড থেকে পরিচালিত গাঁজা সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক ফাঁস করেছে।চলতি মাসের ৫ তারিখে এই চক্রের মূল সরবরাহকারী, ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার নালা থানার বাসিন্দা কালিপদ ভাণ্ডারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১২২ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।এই নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত তিনটি মামলায় মোট ৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রতিবেশী রাজ্য উড়িষ্যা এবং ঝারখান্ড থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা আমাদের রাজ্যে ঢুকেছিল। কিভাবে সীমান্তে পুলিশের কড়া নজরদারি এড়িয়ে এত বিপুল পরিমাণ গাঁজা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এলো?তাহলে কি কোথাও ""সর্ষের মধ্যেই ভূত ""এমন প্রশ্ন ওঠা কি স্বাভাবিক নয়? যদিও এই বিষয়ে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য করতে চাওয়া হয়নি।