দুর্গাপুর, ৬ অগাস্ট : ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে জরিমানার হাত থেকে বাঁচার জন্য হেলমেট? নাকি পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য হেলমেট পরাটা বাধ্যতামূলক? রাজ্যজুড়ে সাড়ম্বরে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ চলছে, দুর্গাপুরেও গতকাল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার ড: প্রণব কুমার এসেছিলেন একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পথ নিরাপত্তার পাঠ শেখাতে। অথচ দুর্গাপুরে অভিভাবকদের সচেতনতার বাস্তব ছবিটা একবার তাকিয়ে দেখুন। সাংবাদিক যখন এক অভিভাবককে জিজ্ঞাসা করলেন যে,"আপনি হেলমেট পরেছেন,আপনার সন্তানের মাথায় হেলমেট কোথায়? "" ব্যাস! সচেতনতার পাঠ শেখাতে যাওয়া সাংবাদিকের মোবাইল ফোন হাত দিয়ে ছুঁড়ে দিলেন অভিভাবক। কিন্তু সভ্য সমাজের প্রতিনিধি, ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানকে পড়িয়ে যিনি সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাইছেন। একজন সচেতন অভিভাবক হিসাবে সেই সন্তানের সামনে আপনি কি এই কাজটা ভালো করলেন? কি শেখালেন আপনার সন্তানকে? নিজে জরিমানার ভয়ে আস্ত একটি হেলমেট পরে থাকলেও তার বাইকে থাকা ফুটফুটে শিশু সন্তানটিকে হেলমেট পরারনি,এই সত্যটাই কর্তব্যরত সাংবাদিক আপনাকে জিজ্ঞাসা করাটা কি তার এত বড় অপরাধ হয়ে গেল? ভেবে দেখবেন তো,ঈশ্বর না করুন দুর্ঘটনার কবলে যদি আপনার বাইক পড়ে তাহলে আপনার হেলমেট বিহীন সন্তান সুরক্ষিত তো? ঈশ্বর না করুন সেদিন এভাবেই সাংবাদিকের মোবাইলের মত দু হাত দিয়ে বলপূর্বক বিপদকে ঠেলে,রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারবেনতো? দুর্গাপুরের খ্যাতনামা একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে এক অভিভাবক এই ছবি করার সময় সাংবাদিকের মোবাইল ফোনটি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে জমিদার সুলভ আচরণ নিয়ে বলে উঠলেন, "" চল চল চল""।আপনার মনপুত: হয়নি বোধহয় সাংবাদিক আপনার ছবি তুলুক। কিন্তু কি করবেন বলুন? আপনার মত "ভূয়ো পুত্রস্নেহে"" পাগল অভিভাবকদের যে রাস্তায় নেমে সাংবাদিকদেরকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হয় যে আপনার"" পুত্র স্নেহ পরিবারের প্রতি প্রীতি ""এসব ""মেকি।"" হয় আপনি নিজেকে নিজেই ভালবাসেন, আর তা না হলে আপনি পুলিশ হেলমেট না পরলে আপনার গাড়ি ধরবে সেই জরিমানার ভয়ে নিজে হেলমেট পরতে ভালোবাসেন। এরকম একজন নয়, অনেকের ছবি ধরা পড়ল স্কুলের সামনে যারা জরিমানা দেওয়ার ভয়ে নিজেদের মাথায় হেলমেট পড়ে পরলেও, নিজের প্রাণপ্রিয় থুড়ি এই প্রাণপ্রিয় শব্দটা কি আমি ঠিক বললাম?নিজের সন্তান-সন্ততিকে একটা হেলমেট না পরিয়ে গাড়ির সামনে বসিয়ে কিংবা দাঁড় করিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছেন এমন ছবি ক্যামেরাবন্দি হল। এসিপি ট্রাফিক রাজকুমার মালাকার বললেন, ""ট্রাফিক আইন অনুযায়ী বাইকে বসে থাকা সবাইকে হেলমেট পড়াটা বাধ্যতামূলক। তা না হলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করার কারণে জরিমানা ধার্য হবে। "" কিন্তু যারা কুম্ভকর্ণের মত জেগে ঘুমান তাদেরকে পথ নিরাপত্তা পালন করে বা সামান্য কিছু টাকা জরিমানা ধার্য করে শেখানো যাবে কি, যে আপনার পরিবারের সবার জীবনের মূল্য কতখানি?বিষয়টি নিয়ে নিউজহান্টের প্রতিনিধিকে ফোনে ওই পুলিশ কর্মী মোহিত দাঁ বলেন, ""আমার স্ত্রীর হাঁটুতে যন্ত্রণা, আমার খুব তাড়া ছিল। আমার মাথা ঠিক ছিল না। আমি বুঝতে পারিনি উনি একজন সাংবাদিক। আমি ভাবলাম মোবাইলে কেউ আমার ছবি তুলছে। তাই আমি হাত দিয়ে মোবাইলটি সরিয়ে দিয়েছিলাম। পরে যখন বুঝতে পারি তিনি সাংবাদিক, আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। আমি পুলিশ কর্মী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ""

বিজ্ঞাপন