দুর্গাপুর, ২৭ অগাস্ট: বর্ধমানের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ এবং প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (Gynecologist) প্রফেশর ড. মমতাজ সংঘমিতা (৮০ বছর বয়স) কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ডা: মমতাজ সংঘমিতা প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার এবং আইনমন্ত্রী সৈয়দ আবুল মনসুর হাবিবুল্লাহর কন্যা।
তার স্বামী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী প্রয়াত নুরে আলম চৌধুরী। ডা: মমতাজ সংঘমিতা রাজনৈতিক আবহে বড় হয়েছেন। দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম থেকে বড় হওয়া। বিবাহিত জীবনেও রাজনীতির প্রভাব তার জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।
রাজনীতিতে আসার বহু আগে থেকেই তিনি একজন প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ‘গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স’ (Gynecology and Obstetrics) বিভাগের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৪ সালের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিজয়ী হয়ে লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব করেন।২০১৯ সালে এই বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনেই ডা: মমতাজ সংঘমিতা তার নিকটবর্তী প্রার্থী ভারতীয় জনতা পার্টির এস এস আলুওয়ালিয়ার কাছে পরাজিত হন।
২০১৪ সালে সাংসদ থাকাকালীন তিনি লোকসভায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রেল সমস্যা এবং দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। প্রয়াত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সংসদ তথা চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রোফেসর ডঃ মমতাজ সঙঘমিতা।তার আকস্মিক ও অকাল প্রয়াণে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চ গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তিনি ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ, আইএমএ বেঙ্গল স্টেটের প্রাক্তন সহ-সভাপতি এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান।
ডঃ সঙ্ঘমিতা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসা-শিক্ষক, অত্যন্ত দয়ালু মানুষ এবং চিকিৎসক সমাজের একজন সক্রিয় সদস্য। চিকিৎসা পেশা ও সমাজে তাঁর অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে
।