দুর্গাপুর, ২১ জুলাই: দুর্গাপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি জমিতে বহুতল আবাসনের বেআইনি সেপটিক ট্যাংক ভাঙার জন্য সোমবার সকালে দুর্গাপুর নগর নিগম কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে হাজির খোদ দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘড়ুই। এই বহুতল আবাসনের নির্মাতা যিনি তিনিও স্বীকার করলেন যে সরকারি জমিতে তারা অবৈধ উপায়ে সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরি করে নিয়েছিলেন। কিন্তু কিভাবে? তার জন্য কি দিতে হয়েছিল কাট মানি? যদিও বহুতল আবাসনের নির্মাতা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু নিউজ হান্ট এর প্রতিনিধিকে বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘড়ুই স্পষ্ট বলেন, ""যারা তিন তলার অনুমোদন পেয়ে চারতলা করে নিয়েছেন, যারা পার্কিংয়ের জায়গার অনুমোদন পাওয়ার পরেও পার্কিং না রেখে সেখানে ফ্ল্যাট করে তা চড়া দামে বিক্রি করেছেন, সেরকম অভিযোগ থাকলে আমাদেরকে জানান। আমরা দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে সমস্ত রকম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।""

বিজ্ঞাপন

বিগত তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বারা পরিচালিত দুর্গাপুর পুরসভার বোর্ড থাকাকালীন দুর্গাপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বহুতল আবাসন তৈরিতে চূড়ান্ত বেনিয়াম হয়েছে এমন অভিযোগ বহুবার উঠেছে। বিশেষ করে দুর্গাপুরের ১৪,১৫,১৮,২১,২০ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও আরো বেশ কিছু ওয়ার্ডে দুর্গাপুর নগর নিগমের নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল নগর নিগমের প্রভাবশালীদের অনুগত বেশ কয়েকজন প্রোমোটার বহুতল আবাসন তৈরিতে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্গাপুর নগর নিগমের এক প্রভাবশালীর অতি ঘনিষ্ঠ তিন তলা বহুতল আবাসনের অনুমোদন পাওয়ার পর তা চারতলা করে দিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি এমনকি পার্কিংয়ের জায়গা না রেখে সেগুলিতেও ফ্ল্যাট তৈরি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি পুকুর বুজিয়ে ফ্ল্যাট তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে দুর্গাপুর নগর নিগমের বেশ কিছু ওয়ার্ডে। 

 সরকারি জমিতে অবৈধ সেপটিক ট্যাংক। নগর নিগমের বুলডোজার নিয়ে হাজির বিধায়ক। ভাঙা হলো অবৈধ নির্মাণ। দুর্গাপুরের বেনাচিতির নতুনপল্লি এলাকায় একটি বেসরকারি বহুতল আবাসন রয়েছে। সেই আবাসন কর্তৃপক্ষ সরকারি জমির ওপর সেপটিক ট্যাঙ্ক করে তুলেছিল এবং প্রাচীর দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল এলাকার মানুষ। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দিকে দিকে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। আর এই অভিযোগ দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই জানার পরেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দুর্গাপুর নগর নিগমকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তারপরেই মঙ্গলবার দুপুরে দুর্গাপুর নগর নিগমের জেসিবি নিয়ে এলাকায় হাজির হন স্বয়ং বিধায়ক। তারপরেই সেই সেপটিক ট্যাংক ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন তৃণমূলের নেতাদের টাকা দিয়ে সরকারি জমি দখল করেছিল ওই আবাসন কর্তৃপক্ষ। শুধু ভাঙ্গার কাজ শুরু হলো। এরপর কই আবাসন কর্তৃপক্ষ নিজেই যদি পুরো অংশটা ভেঙে রাস্তার জায়গা না ছাড়ে তাহলে তার তিনগুণ ক্ষতি হবে। বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন,"মহকুমা শাসক জেলা শাসক ও নগর নিগমের আধিকারিকদের কাছে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছিলাম। জেলাশাসক একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটির তদন্তে উঠে এসেছিল কোথায় কোথায় অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। তারপরেই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। শুধু এখানেই নয় দুর্গাপুরে যেখানে যা অবৈধ নির্মাণ আছে, সকলকে সতর্ক করে বলে দিচ্ছি সরকারী জায়গা খালি করুন। না হলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"প্রোমোটার রাজু চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করে নেন যে তারা সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে এই সেপটিক ট্যাংক তৈরি করেছিলেন। দুর্গাপুর নগর নিগমের পক্ষ থেকে যথার্থ নিয়ম মেনেই এই সেপটিক ট্যাংক ভাঙ্গা হলো। এবার কি তাহলে দুর্গাপুর নগর নিগমের এক প্রভাবশালীর অতি ঘনিষ্ঠ রাতারাতি প্রোমোটার হয়ে ওঠা এবং ফুলের থেকে ওঠা সেই প্রোমোটারের একের পর এক বেআইনি আবাসন গুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হবে? সেগুলিকে কি ভাঙ্গা হবে? এমন প্রশ্ন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আজ সবার মুখে মুখে।