দুর্গাপুর,১৪ জুলাই:রাজ্যের নতুন সরকারের ফতোয়া, শিল্পাঞ্চল গুলিতে শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরির স্বার্থে কারখানার গেট গুলিতে বা সংলগ্ন সরকারি জায়গা গুলিতে কোন রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় কিংবা সিন্ডিকেট অফিস বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সেই মতোই মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার এবিএল এলাকায় দীর্ঘ কয়েক দশক আগে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (ADDA) জমিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া একের পর এক শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিল আড্ডা কর্তৃপক্ষ।

 শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অভিযোগ হাজার হাজার শ্রমিকের স্বার্থ এবং বহু আবেগকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল যাতে করে শ্রমিকরা আর সঙ্গবদ্ধ না হতে পারে। এবিএল এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন, সিপিআইএমের শ্রমিক সংগঠন এবং আইএনটিইউসির শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় দীর্ঘদিন আগেই গড়ে উঠেছিল। মূলত এবিএল কারখানার শ্রমিকদের সমস্যা সহ শ্রমিক কলোনির বিভিন্ন সমস্যা দেখভালের স্বার্থেই এই শ্রমিক সংগঠনের এই কার্যালয় গুলিতে বিভিন্ন কাজকর্ম চলত। রাজ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরির স্বার্থে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত যে সরকারি কোনও জমিতে কোন রাজনৈতিক দলের বা তাদের শাখা সংগঠনের কোনও কার্যালয় থাকবে না। বিগত বাম সরকারের আমলে বিভিন্ন শিল্প তালুক গুলিতে সরকারি জমি দখল করে শ্রমিক সংগঠনের এবং স্থানীয়দের সিন্ডিকেটের যে কার্যালয় গুলি ছিল সেগুলিকেও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই মতোই এবার বুলডোজার নিয়ে অ্যাকশনে নামতে দেখা গেল সরকারি আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ কর্তৃপক্ষকে। দুর্গাপুরের এ বি এল এ আইএনটিটিইউসি এবং সি আই টি ইউ (সিটু) র কার্যালয় বুলডোজার চালিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হল। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কার্যত বিনা বাধাতেই INTTUC এবং CITU র কার্যালয়ে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হল। আইএনটিইউসি নেতা বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, ""আমরা আইনটিইউসির কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে আছি। সরকারের নতুন শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরীর অজুহাতে সরকারি জমিতে শ্রমিক সংগঠন ভেঙ্গে ফেলার কাজ অনেকদিন ধরেই চলছে। দুর্গাপুর ও আসানসোলে এরকম বহু কার্যালয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই কার্যালয়ের সঙ্গে বহু স্মৃতি এবং আবেগ জড়িয়ে আছে। অনেকদিন আগে এবিএল কারখানা যখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং তৎকালীন মন্ত্রী প্রিয় রঞ্জন দাশ মুন্সির তৎপরতায় কারখানা বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা বংশী বদন কর্মকার। টিফিন টাইমে শ্রমিকরা নিজেদের নিজেদের কার্যালয়ে এসে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতেন। আসলে সরকার চাইছে না শ্রমিকরা আর সংঘবদ্ধ হোক। তবে এভাবে শ্রমিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। ""