রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাপটে ক্ষতির মুখে 'কৃষক বন্ধু' সাদা বক..
নিউজহান্ট এডমিন
প্রধান সম্পাদক
সকাল ১০:০১
২২৪
২ মিনিট পড়ুন
শেয়ার:
ছবি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাপটে ক্ষতির মুখে 'কৃষক বন্ধু' সাদা বক.. (প্রতীকী ছবি)
দুর্গাপুর: বর্ষার জল নামতেই কাঁকসার জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ ধানখেতে শুরু হয়েছে চাষের ব্যস্ততা। কোথাও চলছে চারা রোপণ, কোথাও জমি তৈরির কাজ। আর সেই ব্যস্ততার মধ্যেই ধান চাষের জমি জুড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসছে বড় বড় সাদা বক। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ ক্যানভাসে যেন সাদা তুলির আঁচড়। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কৃষির এক অমূল্য সহযোদ্ধা। কৃষকের ভাষায়, এরা 'কৃষকবন্ধু'। ধানখেতে সারাদিন ধরে পোকামাকড়ের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় সাদা বক। শুঁয়োপোকা, ঘাসফড়িং, ফড়িং, বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ এমনকি ছোট শামুক-জাতীয় প্রাণীও এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। ফলে ধানের বীজের ক্ষতি করা পোকার সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিজ্ঞাপন
কৃষিবিদদের মতে, প্রাকৃতিক উপায়ে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে এই পাখিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিজমির বাস্তুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাদা বক এক নীরব প্রহরীর কাজ করে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, আধুনিক কৃষিতে ক্রমবর্ধমান হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এই উপকারী পাখিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। কীটনাশকের প্রভাবে মাঠে পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় খাদ্যের সংকটে পড়ছে সাদা বক। আবার বিষাক্ত রাসায়নিক খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে পাখিদের শরীরেও প্রবেশ করতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদদের একাংশ। ফলে শুধু পাখিই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গোটা কৃষি-বাস্তুতন্ত্র। স্থানীয় কৃষকদের একাংশ জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও ধানখেতে শত শত সাদা বক একসঙ্গে দেখা যেত। এখনও বর্ষায় তারা মাঠে নামে, তবে অনেকেরই দাবি, আগের তুলনায় সংখ্যাটা কমেছে। পক্ষীপ্রেমী অশোক রায় বলেন, "আমি বিভিন্ন জায়গায় চাষীদের সচেতন করছি। সাদা বক চাষীদের বন্ধু। এই বক না থাকলে বাস্তুতন্ত্রের বড় ক্ষতি হবে। ধান জমিতে বেড়ে যাবে পোকামাকড়। তাই সাদা বক আমাদের বাঁচাতেই হবে।" রাজ্য কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। সম্প্রতি জেলাশাসক পন্নামবলাম এস বলেন,"কৃষিতে জৈব সারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করলে কারোর কোন ক্ষতি হয় না এবং জমির উর্বরতা বাড়ে।" দুর্গাপুর বনাঞ্চলের বনাধিকারিক তপব্রত রায় বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। দুর্গাপুর রেঞ্জের পক্ষ থেকেও কাঁকসার জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ সকলকেই বন্যপ্রাণ বাঁচাতে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে