দুর্গাপুর: সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ। অভিযানে নামলো এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। রবিবার সকাল থেকে দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে মূল্যতালিকা, বিক্রির হার এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। দেখা হয় ওজন মাপার যন্ত্রও। সবজি, মাছ বাজার ও একাধিক দোকান ঘুরে দেখেন আধিকারিকরা। কথা বলেন ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে। অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকরাও।

বিজ্ঞাপন

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (দুর্গাপুর) সুবীর রায় বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠছে সবজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। সেই জন্যই রাজ্য এবং জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ অভিযানে নেমেছে। দুর্গাপুরেও সেই রকম অভিযান চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরাও সঙ্গে রয়েছি।”"

তবে অনেকেই অভিযোগের সুরে বলছেন যে, ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরে পরেই কাঁচা শাক সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলায় জেলায় তৈরি হয়েছিল টাস্ক ফোর্স।বেশ কিছুদিন এই টাস্ক ফোর্স এর সদস্যরা বাজারগুলিতে অভিযান চালিয়েছিল।

বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের আগে আগেই বাজারে অভিযানের ছবি দু এক বছর দেখা গেলেও তারপর আবার যে কে সেই হয়ে গিয়েছিল। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্গাপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রঞ্জনা রায়। অভিযান চলাকালীন তিনি বলেন, ""আমরা আজ বেনাচিতে বাজারের ঘোষ মার্কেটে শাকসবজি, মাছের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলিতে অভিযান চালিয়েছে। আমাদের সঙ্গে লিগাল মেট্রলজি দপ্তরের আধিকারিকরাও রয়েছেন। তারা ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা চেক করে দেখছেন। এই ধরনের অভিযান ধারাবাহিক চলবে। ""

আর মাথা ঠুকলেও দেখা পাওয়া যায়নি টাস্ক ফোর্সের। যেমনটা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। কয়েকদিন অভিযান, জরিমানা সব হয়, তারপর যেই একটু পরিস্থিতি থিতিয়ে যায় আবার শুরু হয়ে যায় প্লাস্টিকের দেদার ব্যবহার। সাধারণ মানুষের দাবি তাই নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ কাঁচা শাক সবজির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এই বাজার গুলিতে ঘুরলেই হবেনা,যেখানে আড়তদাররা কাঁচা শাক সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রিক কিনছেন এবং তা খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন তাহলে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সেই আড়তদারদের কাছে যেমন পৌঁছাতে হবে তেমনই আবার খুচরো ব্যবসায়ীদের কেও বিরাট লাভ যাতে না রাখেন এবং তার জন্য কড়া ব্যবস্থা সরকারিভাবে গ্রহণ করা হলে তবেই পাকাপাকিভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে। এখন দেখার এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এই কাজে কতটা সফল হতে পারে। তা ভিন্ন এই অভিযান বারবার বহুবারের মতো নিশফলা অভিযান হয়েই রয়ে যাবে।