দুর্গাপুর: ভাইফোঁটার আগে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে রংবেরঙের মিষ্টির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। কিন্তু সেই বাহারি মিষ্টির রংই এবার বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। মিষ্টিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রং। এমন আশঙ্কার মধ্যেই দুর্গাপুরের বিধাননগরে একাধিক মিষ্টির দোকানে বড়সড় অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। শনিবার সকাল থেকেই চলে এই অভিযান। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু রং, মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি এবং মিষ্টি তৈরির বিভিন্ন সামগ্রী। ভাইফোঁটা মানেই মিষ্টিমুখ। শুধু ভাইফোঁটা নয় কালীপুজো উপলক্ষেও মিষ্টির দোকানগুলিতে ভিড় জমে।

বিজ্ঞাপন

মিষ্টির দোকানগুলিতে এখন উপচে পড়ছে বাহারি মিষ্টির সম্ভার। নানা রং, নানা নকশায় সাজিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেই রংবেরঙের মিষ্টি তৈরিতে আদৌ কী ধরনের রং ব্যবহার করা হচ্ছে? তা কি খাদ্যোপযোগী, নাকি মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শনিবার দুর্গাপুরের বিধাননগরের একাধিক মিষ্টির দোকানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা।দোকানে দোকানে ঢুকে শুধু মিষ্টির সম্ভারই নয়, খতিয়ে দেখা হয় মিষ্টি তৈরির কারখানা ও রান্নাঘরের পরিবেশ, ব্যবহৃত কাঁচামালের গুণমান এবং মজুত থাকা খাদ্যসামগ্রীর অবস্থা। আর সেই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয় মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয় মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত বেশ কিছু রং। উৎসবের মরশুমে রংবেরঙের মিষ্টির আড়ালে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই জোরদার নজরদারি চালায় দপ্তর। অভিযান চলাকালীন মিষ্টির দোকানদারদের সতর্কও করা হয়। মিষ্টি তৈরিতে শুধুমাত্র অনুমোদিত খাদ্যোপযোগী রং ব্যবহার, মেয়াদ উত্তীর্ণ সামগ্রী বর্জন এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়।

 খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক শুভম ঘোষ বলেন, "ভাইফোঁটার আগে আমাদের এই অভিযান চলছে। কীভাবে মিষ্টি তৈরি হচ্ছে, মিষ্টির দোকানের রান্নাঘরগুলির কী অবস্থা, সব আমরা খতিয়ে দেখলাম। মেয়াদ উত্তীর্ণ বেশ কিছু সামগ্রী ও রং উদ্ধার করেছি।"