সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা আর পিছনে সাইরেন বাজিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘ঐরাবত’, বনদপ্তরের বিশেষ নজরদারি কাঁকসার জঙ্গলমহলেও। ২০২৪ এ উত্তরবঙ্গে দাঁতাল হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। তারপর থেকে রাজ্য বনদপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছিল। এবারে দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ একাধিক জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় চলছে নজরদারি। তেমনি কাঁকসার জঙ্গলমহলেও রয়েছে ভারতীয় প্রজাতির নেগড়ের মত হিংস্র জীবজন্তু। মাঝখানেক আগে বুদবুদ এর দেবশালার জঙ্গলে নেকড়ের আক্রমণে জখমের ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সব ঘটনার মুখে যাতে কোনোভাবেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পড়তে না হয় সেই জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে বাড়তি নজরদারি শুরু করল বর্ধমান বন বিভাগ। দুর্গাপুর বনাঞ্চলের বন কর্মীরাও স্কট করে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতেও দেখা গেল। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে সকালেই ঐরাবৎ নামক বনদপ্তরের বিশেষ গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি বনদপ্তরেরর গাড়ি মলানদিঘীর সরস্বতীগঞ্জ, রক্ষিতপুর, চুয়া, ত্রিলোকচন্দ্রপুর এলাকায় পৌঁছে গেল। সেইসব এলাকা থেকে পরীক্ষার্থীদের স্কট করে মলানদিঘীর পরীক্ষা কেন্দ্রে, দেবশালা পরীক্ষা কেন্দ্রে, ত্রিলোকচন্দ্রপুর পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে দেখা গেল। যাদের বাইক বা সাইকেল ছিলনা তাদের সেই গাড়িতে চাপিয়েও নিয়ে যেতে দেখা গেল।

বনদপ্তরের এই নজরদারিতে খুশি পরীক্ষার্থীরা। তরুণ রুইদাস নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন,”জঙ্গল পার হতে ভয়ই লাগে। তবে আজ আর ভয় নেই। আমাদের একেবারে অভিভাবকদের মত পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছে বনদপ্তরের কাকুরা। খুব খুশি আমরা।” বনদপ্তর এর কর্মী মনোহর ঘোষ বলেন,”শুধু বন্যপ্রাণীদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করাই নয় পরীক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার কবলেও যাতে পড়তে না হয় সেদিকেও আমাদের নজরদারি রয়েছে। সেই জন্য আমাদের গাড়ি পিছনে রয়েছে। সামনে সাইকেল নিয়ে যাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। প্রয়োজনে গাড়ির সাইরেনও বাজাচ্ছি আমরা। পরীক্ষার দিনগুলোতে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেও দেওয়ার হবে আবার পরীক্ষা শেষে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হবে।”দুর্গাপুর বনাঞ্চলের রেঞ্জার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”সর্বক্ষণই আমাদের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় নজরদারি চলে। পরীক্ষার দিনগুলোতে বিশেষ নজরদারি চলছে। পরীক্ষার দিনগুলো দিনভর নজরদারি চালানো হবে জঙ্গল স্কুলগুলিতে এবং জঙ্গলের রাস্তায়।”